কলেজ ক্যাজুয়াল শিক্ষাকর্মীদের দূরাবস্থা
রাজ্যের সরকার পোষিত কলেজগুলিতে বর্তমানে স্থায়ী কর্মচারীর সংখ্যা নগন্য। কলেজগুলিতে শিক্ষাসহায়ক যাবতীয় কাজের মাধ্যমে, কলেজগুলিকে সচল রাখতে, কলেজ পরিচালন সমিতি (Governing Body) নিয়োগ পদ্ধতিকে মান্যতা দিয়ে ক্যাজুয়াল শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করে।
এই সকল কর্মচারীরা লাইব্রেরী থেকে ল্যাবরেটরীর কাজ, ছাত্রছাত্রীদের রেজিষ্ট্রেশান, ফর্মফিলাপ, মার্কশীট, স্কলারশীপের মতো গুরুত্বপূর্ন কাজ। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের কন্যাশ্রী, গর্বের ঐক্যশ্রী প্রকল্পের কাজ দায়িত্ব ও নিষ্ঠার সাথে করে চলেছে।
কেউ ১৫ বছর, কেউ ১০ বছর, কেউ বা ৫ বছর ধরে কলেজের Governing Body এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করে গেলেও এদের না আছে কাজের কোন সরকারী স্বীকৃতি, না আছে কাজের নিশ্চয়তা, না আছে নির্দিষ্ট কোন বেতনক্রম। বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বাজারে ২০০০ থেকে সর্বাধিক ৬০০০ টাকার সামান্য পারিশ্রমিকে অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করতে হয়। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরী করলেও এই সকল কর্ম নিশ্চয়তাহীন শিক্ষাকর্মীরা অর্থের অভাবে পারে না নিজের সন্তান সন্ততিকে উচ্চশিক্ষিত করতে। পারে না বৃদ্ধ অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা খরচ জোগান দিতে। অসহায় অবস্থায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষাকর্মী নিরুপায় হয়ে বেছে নিয়েছে আত্মহত্যার পথ।
প্রসঙ্গত, কলেজ কলেজের এযাবৎ স্থায়ী কর্মচারী যারা রয়েছেন, তাদের ও নিয়োগ কলেজের Governing Body এর মাধ্যমে। এমনকি একি Governing Body দ্বারা একিই ভাবে নিয়োগকৃত অতিথী অধ্যাপকদের বর্তমান সরকার সাম্প্রতীক সময়ে সরকারী স্বীকৃতি, ৬০ বছর পর্যন্ত কর্মনিশ্চয়তা, ও সম্মানজনক বেতনক্রম প্রদান করলেও, শিক্ষাকর্মীরা এযাবৎ বঞ্চিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে এই বৈষ্যম্য, এই বিভাজনের প্রতিবাদে একাধিকবার সরব হয়ে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছে কলেজ ক্যাজুয়াল কর্মচারীদের সংগঠন- পশ্চিমবঙ্গ কলেজ ক্যাজুয়াল এমপ্লয়ীজ সমিতি।দীর্ঘদিন অনশন করলেও আজো নিরাশ।
বর্তমান সময়ে কলেজগুলি থেকে ছাত্রছাত্রীদের প্রদেয় টিউশান ফিজের ৫০% সংগ্রহ করে রাজ্য সরকার। ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে এই টিউশান ফিজ সংগ্রহ করে সরকারকে জমা দেওয়ার কাজটাও করে থাকে একজন ক্যাজুয়াল শিক্ষাকর্মী। এমন অনেক কলেজ আছে যেখানে ক্যাশিয়ার, একাউন্ট্যান্ট, হেড ক্লার্কের মতো গুরুত্বপূর্ন পদের দায়িত্ব সামলাতে হয় এদের।
অতিথি অধ্যাপকদের মতো শিক্ষাকর্মীদের কাজের সরকারী স্বীকৃতি, ৬০ বছর পর্যন্ত কর্ম নিশ্চয়তা ও নির্দিষ্ট বেতন পরিকাঠামোর দাবীতে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চশিক্ষা দপ্তর, উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীকে বারবার লিখিত ভাবে জানিয়ে প্রতিশ্রুতি, আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একই ছাদের তলায় কর্মরত হয়ে এই শিক্ষক- শিক্ষাকর্মীর বিভাজন, বৈষম্য আর কত দিন??
প্রসঙ্গত কলেজে নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমান সময়ে কলেজ সার্ভিস কমিশান চালু হওয়ায় এই সকল কর্মচারীরা আতংকিত। কারন এদের অনেকেরই কাজ করতে করতে বয়স ৪০ পেরিয়ে যাওয়ায়, চাকরীর পরীক্ষায় বসার নুন্যতম বয়সটাও হারিয়ে ফেলছে।
*কি হবে এদের ভবিষ্যত??*
বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে রাজ্যের প্রায় ৪৫০০ কলেজে কর্মরত ক্যাজুয়াল কর্মচারী ও তাদের অসহায় পরিবার।
সব্যসাচী গুছাইত
মুখপাত্র
পশ্চিমবঙ্গ কলেজ ক্যাজুয়াল এমপ্লয়ীজ সমিতি।
রাজ্য কমিটি